আইকিউভিআইএর দাবি

জুলাই-সেপ্টেম্বরে ওষুধের খুচরা বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯.৬৫%

আইকিউভিআইএর হিসাবে, গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশে খুচরা পর্যায়ে ওষুধ বিক্রি হয়েছে ৯ হাজার ৫৮ কোটি টাকার।

দেশে ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানির ওষুধ বিক্রি ও ধরন নিয়ে নিয়মিত জরিপ চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্লিনিক্যাল গবেষণায় নিয়োজিত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান আইকিউভিআইএ। সংস্থাটির হিসাবে, গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশে খুচরা পর্যায়ে ওষুধ বিক্রি হয়েছে ৯ হাজার ৫৮ কোটি টাকার। ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় খুচরায় ওষুধ বিক্রিতে প্রবৃদ্ধির হার ১৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

আইকিউভিআইএর হিসাবে, দেশে ওষুধের মোট বাজারের ৮৫ শতাংশেরও বেশি শীর্ষ ১৫ প্রতিষ্ঠানের দখলে। এ ১৫ প্রতিষ্ঠান হলো স্কয়ার, ইনসেপ্টা, বেক্সিমকো, হেলথকেয়ার, রেনাটা, এসকায়েফ, অপসোনিন, অ্যারিস্টোফার্মা, পপুলার, একমি, এসিআই, রেডিয়েন্ট, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল, ইউনিমেড অ্যান্ড ইউনিহেলথ ও বিকন ফার্মা।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত এক দশকে দেশের ওষুধের খুচরা বিক্রিতে প্রবৃদ্ধির হার কম-বেশি ইতিবাচক ধারায় ছিল। সে ধারা বজায় রেখে চলতি পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম প্রান্তিকে ওষুধের খুচরা বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয় ১৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ হার দাঁড়ায় ২২ দশমিক ৬১ শতাংশে। সর্বশেষ গত প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

তবে আইকিউভিআইএর জরিপে উঠে আসা সর্বশেষ প্রান্তিকের এ তথ্যের সঙ্গে একমত নয় ওষুধ খাতের শীর্ষ কোম্পানিগুলো। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বছরভিত্তিক প্রবৃদ্ধির তথ্য কম-বেশি গ্রহণযোগ্য হলেও সর্বশেষ প্রান্তিকের জরিপে প্রবৃদ্ধির তথ্য নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, গত প্রান্তিকে বেক্সিমকোর প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির হার দেখানো হয়েছে ৪ শতাংশ। কিন্তু আইকিউভিআইএর জরিপে তা এসেছে ২০ শতাংশ। আবার রেনাটার প্রতিবেদনে কোম্পানিটির বিক্রিতে প্রবৃদ্ধির হার দেখানো হয়েছে ১০ বা ১১ শতাংশ। কিন্তু আইকিউভিআইএর জরিপে এ হার উঠে এসেছে প্রায় ৩৬ শতাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (ফাইন্যান্স ও স্ট্র্যাটেজি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আইকিউভিআইএ স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে এ সার্ভে করে। তাদের এবারের জরিপ নিয়ে আমাদের দ্বিমত আছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আমাদের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। ধরে নিলাম আমাদের প্রবৃদ্ধি শূন্য। যেখানে আমি বলছি আমাদের প্রবৃদ্ধি শূন্য, সেখানে তারা জরিপ করে কীভাবে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পায়? এবারের আইকিউভিআইএর প্রতিবেদনটির সঙ্গে আমাদের প্রতিবেদনের বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রেও এ পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে জুলাই সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের প্রতিবেদনটির তথ্যে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।’

আইকিউভিআইএর তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ইনসেপ্টার প্রবৃদ্ধি জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ছিল ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বেক্সিমকোর প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৬২ শতাংশ। হেলথকেয়ারের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৬ দশমিক ২১ শতাংশ। রেনাটার প্রবৃদ্ধি ৩৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এসকায়েফের প্রবৃদ্ধি ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অপসোনিন, অ্যারিস্টোফার্মা, পপুলার, একমি, এসিআই, রেডিয়েন্ট, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল, ইউনিমেড অ্যান্ড ইউনিহেলথ ও বিকন ফার্মার প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৬৪, ২৭ দশমিক ৬৭, ৪৭ দশমিক ৪৭, ১৭ দশমিক ৩০, ৬ দশমিক ৬৩, ১৩ দশমিক ৫৪, ঋণাত্মক ৭ দশমিক ২১, ২৭ দশমিক ৫২ এবং ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এদিকে আইকিউভিআইএর জরিপের তথ্য নিয়ে দ্বিমত না থাকলেও প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছে না কিছু প্রতিষ্ঠান। রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ বছর আগস্টের পরে নভেম্বর পর্যন্ত এবং ডিসেম্বরেও দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটা অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। সেটার একটা প্রভাব ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটেও আছে। আর ওষুধের বাজার অনেক ওঠানামা করে। মৌসুমভিত্তিক ভ্যারিয়েশন থাকে, যার প্রভাবে নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি এই তিন মাস একটু খারাপ মৌসুম যায় আমাদের। কিন্তু এ প্রান্তিক সেই তুলনায় খারাপ নয়, এর কারণ হিসেবে আরো কিছু উপাদান হয়তো থাকতে পারে। আরেকটু বিশ্লেষণ করে দেখা প্রয়োজন।’

রেডিয়েন্টের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, ‘এই প্রান্তিকে আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল শ্লথ। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিছু সমস্যা ছিল। সেগুলো কাটিয়ে আশা করছি জানুয়ারি থেকে আমরা আরো ভালো করব। জরিপে যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে সেটা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আশা করছি আগামী বছর জানুয়ারি থেকে আমাদের প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশের কাছাকাছি নেয়ার চেষ্টা করব।’

আরও